কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার
কিডনিতে পাথর একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। কিডনিতে প্রস্রাবের কিছু খনিজ ও লবণ জমে শক্ত স্ফটিকের মতো পদার্থ তৈরি হলে তাকে কিডনিতে পাথর বা Kidney Stone বলা হয়। পাথরের আকার ছোট হলে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না এবং প্রস্রাবের সঙ্গে নিজে থেকেই বের হয়ে যেতে পারে। তবে পাথর বড় হলে বা প্রস্রাবের পথে আটকে গেলে তীব্র ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে জানা থাকলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সহজ হয়। এই আর্টিকেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সাধারণ লক্ষণ, সম্ভাব্য কারণ এবং কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায় তা আলোচনা করা হলো।
কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান লক্ষণ
কিডনিতে পাথর থাকলে সবার একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। পাথরের অবস্থান, আকার এবং প্রস্রাবের পথে বাধা সৃষ্টি করছে কি না—এসবের ওপর লক্ষণ নির্ভর করতে পারে।
১. কোমর বা পিঠের পাশে তীব্র ব্যথা
কিডনিতে পাথরের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো কোমর বা পিঠের এক পাশে তীব্র ব্যথা। এই ব্যথা কখনো পেটের নিচের অংশ বা কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা কিছুক্ষণ পরপর বাড়তে বা কমতে পারে এবং হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
২. প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
পাথর প্রস্রাবের পথে নেমে এলে প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। তবে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া শুধু কিডনিতে পাথরের কারণে হয় না; মূত্রনালির সংক্রমণসহ অন্যান্য কারণেও হতে পারে।
৩. প্রস্রাবে রক্ত
কিডনিতে পাথর প্রস্রাবের পথের ভেতরের অংশে আঘাত করলে প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে। কখনো প্রস্রাব গোলাপি, লালচে বা বাদামি রঙের হতে পারে। এমন হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. বারবার প্রস্রাবের বেগ
পাথর মূত্রনালির নিচের দিকে অবস্থান করলে বারবার প্রস্রাবের বেগ বা অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. বমি বমি ভাব বা বমি
তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। বিশেষ করে পাথর প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. প্রস্রাব কমে যাওয়া বা আটকে যাওয়া
বড় পাথর প্রস্রাবের পথে বাধা সৃষ্টি করলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে বা প্রস্রাব করতে সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
৭. জ্বর ও কাঁপুনি
কিডনিতে পাথরের সঙ্গে জ্বর ও কাঁপুনি থাকলে মূত্রনালির সংক্রমণ থাকতে পারে। প্রস্রাবের পথে বাধার সঙ্গে সংক্রমণ থাকলে এটি জরুরি পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে।
কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ কী?
কিডনিতে পাথর বিভিন্ন কারণে হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, প্রস্রাবে কিছু খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, কিছু খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস এবং কিছু শারীরিক সমস্যা এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, তাদের ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে।
কিডনিতে পাথর হলে কী করবেন?
কিডনিতে পাথর সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাথরের আকার ও অবস্থান নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা করতে পারেন।
ছোট পাথর অনেক সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শে নিজে থেকেই বের হয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর বা প্রস্রাবের পথে আটকে থাকা পাথরের জন্য ওষুধ, বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি বা কখনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের উপায়
পর্যাপ্ত পানি পান করা কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা ভালো।
তবে এক ধরনের খাবার বাদ দিলেই সবার কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ হবে—এমন নয়। পাথরের ধরন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ ভিন্ন হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
কিডনিতে পাথরের লক্ষণের সঙ্গে যদি জ্বর, কাঁপুনি, অসহ্য ব্যথা, বারবার বমি, প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
উপসংহার
কোমর বা পিঠের পাশে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ এবং বমি বমি ভাব কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। তবে এসব উপসর্গ অন্যান্য রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও উপযুক্ত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সতর্কতা: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ বা রোগ নির্ণয়ের বিকল্প নয়।
